৫০ পেরিয়েও চিরতরুণী! জানুন ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের গ্ল্যামারাস ত্বকের গোপন রহস্য
বলিউডের অন্যতম সেরা সুন্দরী এবং প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বর্য রাই বচ্চন তাঁর অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি অনবদ্য রূপের জন্যও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। অবাক করার মতো বিষয় হলো, ৫০ বছর বয়সে এসেও তাঁর ত্বকের জেল্লা এবং গ্ল্যামার তরুণী অভিনেত্রীদের টেক্কা দেয়।
অনেকেরই ধারণা, সেলিব্রিটিদের এই রূপের পেছনে হয়তো থাকে হাজার হাজার টাকার দামি কেমিক্যাল প্রসাধনী বা আধুনিক কোনো ক্লিনিকাল ট্রিটমেন্ট। কিন্তু বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ঐশ্বর্য নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর এই চিরযৌবনা রূপের আসল রহস্য লুকিয়ে আছে একদম সাধারণ জীবনযাত্রা এবং রান্নাঘরের কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে।চলুন জেনে নেওয়া যাক, সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী কোন কোন অভ্যাসে নিজেকে ধরে রেখেছেন এই গ্ল্যামার কুইন:
১. দাদিমার আমলের ঘরোয়া ফেসপ্যাক
ঐশ্বর্য কেমিক্যাল স্ক্রাব বা ফেসপ্যাকের চেয়ে ঘরে তৈরি অর্গানিক উপাদানে বেশি বিশ্বাসী। তিনি মূলত দুটি প্যাক ব্যবহার করেন:বেসন, হলুদ ও দুধের স্ক্রাব: ত্বকের মরা কোষ দূর করতে এবং প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বলতা বাড়াতে তিনি বেসন, কাঁচা হলুদ বাটা ও কাঁচা দুধের মিশ্রণ মুখে লাগান।দই ও শসার প্যাক: শুটিংয়ের ধকল বা রোদে পোড়া ভাব কমাতে টক দইয়ের সাথে তাজা শসা বাটা মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করেন। এটি ত্বককে ভেতর থেকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখে।
২. সঠিক হাইড্রেশন এবং নিয়ম মেনে ক্লেনজিং
অভিনেত্রীর মতে, আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তখনই, যখন শরীর ভেতর থেকে আর্দ্র থাকে। তাই সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা তাঁর রুটিনের অন্যতম প্রধান অংশ। এছাড়া শুটিংয়ের ভারী মেকআপ তোলার পর তিনি নিয়মিত ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন। রাতে ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজ করা তিনি কখনোই ভোলেন না।
৩. সুষম ডায়েট ও ডিটক্স ওয়াটার
ঐশ্বর্য তাঁর দিন শুরু করেন এক গ্লাস হালকা গরম জলে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে। এই ডিটক্স ড্রিংকটি শরীরের সমস্ত ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে।খাবারের ক্ষেত্রে তিনি জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত তেল-মসলা এবং প্রসেসড ফুড একেবারেই এড়িয়ে চলেন। তাঁর দৈনিক ডায়েটে থাকে প্রচুর পরিমাণে সেদ্ধ সবজি, তাজা ফল, সালাদ ও প্রোটিন। তিনি একবারে পেট পুরে না খেয়ে, সারাদিনে অল্প অল্প করে বারবার (Short meals) খাবার খান।
৪. মানসিক ক্লান্তি দূর করতে অ্যারোমাথেরাপিসুন্দর ত্বকের জন্য মানসিক শান্তি অত্যন্ত জরুরি। ঐশ্বর্য তাঁর কাজের চাপ ও ক্লান্তি দূর করতে অ্যারোমাথেরাপির সাহায্য নেন। চন্দন, ল্যাভেন্ডার বা চন্দ্রমল্লিকার মতো এসেনশিয়াল অয়েল তাঁর মনকে শান্ত রাখে, যা পরোক্ষভাবে তাঁর ত্বকে এক ধরণের পজিটিভ গ্লো এনে দেয়।
শেষ কথা:
ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের এই বিউটি রুটিন থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার—দামি প্রোডাক্টের পেছনে না ছুটে প্রাকৃতিকভাবে যত্ন নিলে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলেই ত্বককে দীর্ঘদিন তরুণ ও সতেজ রাখা সম্ভব। আজই আপনার রূপচর্চায় যুক্ত করতে পারেন এই সহজ টিপসগুলো!

Comments
Post a Comment